Published : 02 Jul 2026, 08:46 AM
মেঘনা নদীর ভয়াবহ ভাঙন থেকে ভোলা সদর ও দৌলতখান উপজেলার জীবন ও সম্পত্তি রক্ষার দাবিতে স্থানীয় বাসিন্দারা তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। এই দাবিতে তারা সড়ক অবরোধ করে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কার্যালয় ঘিরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এই সময় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের তীব্র ধস্তাধস্তিও দেখা যায়। আজ মঙ্গলবার সকাল ১০টা নাগাদ পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে শিবপুর ও মেদুয়া ইউনিয়নের শতাধিক বাসিন্দা মিছিল নিয়ে ভোলা শহরের যুগীরঘোলে অবস্থিত পাউবো কার্যালয়ের সামনে জড়ো হন। এরপর তারা সড়কপথে বাধা সৃষ্টি করে কার্যালয়টিকে ঘিরে ফেলে, যার ফলে শহরের গুরুত্বপূর্ণ যুগীরঘোল সড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। বিক্ষোভকারীরা যখন পাউবোর প্রধান ফটক ঠেলে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করেন, তখন পুলিশ তাদের পথ আটকায়। এই পরিস্থিতিতে উভয় পক্ষের মধ্যে প্রায় দুই মিনিট ধরে উত্তেজনাপূর্ণ ধস্তাধস্তি ঘটে। পরবর্তীতে বিক্ষোভকারীরা পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে কার্যালয়ের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন।
অবশেষে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। বিক্ষোভকারী এ কে এম নুর হোসেন, মো. মুনসুর, আবদুল মোতালেব ও আমজাদ জানান, মেঘনা নদীর ক্রমাগত ভাঙনের ফলে চলতি বর্ষায় শিবপুর ও মেদুয়া ইউনিয়নের অবশিষ্ট অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে। ভোলা শহর রক্ষা বাঁধও হুমকির মুখে, যেকোনো মুহূর্তে বাঁধ ভেঙে শহর প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বহু মানুষ ইতোমধ্যে ভাঙনের কারণে সর্বস্বান্ত হয়েছেন এবং এলাকার অধিকাংশ মানুষই গরিব ও হতদরিদ্র, যাদের কোনো অবলম্বন নেই। তাই তারা স্থায়ী সমাধানের জন্য দ্রুত সিসি ব্লক ডাম্পিংয়ের দাবি তোলেন। তারা অভিযোগ করেন, সিসি ব্লকের দাবিতে আন্দোলন শুরু হলেই পাউবো আশ্বাস দিয়ে কিছু জিওব্যাগ ফেলে, কিন্তু তা কোনো কাজে আসে না। সম্প্রতি আবারও তীব্র ভাঙন শুরু হওয়ায় তারা সড়ক অবরোধ ও পাউবো ঘেরাও কর্মসূচি পালন করে দ্রুত সিসি ব্লক স্থাপনের দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান করেছেন। প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে চলা এই বিক্ষোভের পর পাউবোর কর্মকর্তারা আন্দোলনকারীদের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে বসেন।
বৈঠকে আগামী এক মাসের মধ্যে প্রকল্পের আওতায় সিসি ব্লক ডাম্পিংয়ের কাজ শুরু করার আশ্বাস দেওয়ায় আন্দোলনকারীরা এক মাসের সময়সীমা মেনে কর্মসূচি স্থগিত করেন। ভোলা সদর মডেল থানার পরিদর্শক (অপারেশন) মো. ফিরোজ আলম হাওলাদার জানান, সিসি ব্লকের দাবিতে স্থানীয়দের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। ভোলা-১ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জিয়া উদ্দীন আরিফ উল্লেখ করেন, শিবপুর ও মেদুয়া ইউনিয়নের নদী-তীরবর্তী এলাকায় ভাঙনরোধে সিসি ব্লক ডাম্পিংয়ের জন্য ৬৮৫ কোটি টাকার একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে এবং এটি বর্তমানে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে প্রকল্পটি দ্রুত অনুমোদন হয়ে কাজ শুরু করা সম্ভব হবে। স্থানীয়দের ভিটেমাটি হারানোর বিষয়টি বিবেচনা করে তাদের এই আন্দোলন সম্পূর্ণ যৌক্তিক।।